Description
” ওই দিন সন্ধ্যায় অনশন মঞ্চ থেকে বেরিয়ে শুভ যখন স্ট্রেচারের মাথার দিকটা টেনে আম্বুলেন্সে তুলছিল, তখন দাদাটার জ্ঞান ছিল না তেমন। মিডিয়া ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, মানুষ হাতে হাত ধরে ব্যারিকেড বানিয়ে দিয়েছিল ওদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবার কান্না ভেজা চোখ ছাড়া কিছুই ছিল না চারিদিকে। শুধু শুভ্র অ্যাম্বুলেন্সে উঠেছিল বলেই উঁচু থেকে দেখতে পেয়েছিল- ভিড়ের একদম পিছন দিকে রানি রাসমণির বাড়ির দুর্গা প্রতিমা মানুষের কাঁধে চড়ে বিসর্জনে যাচ্ছেন কর্পোরেশন থেকে ওই রাস্তায় প্রচুর আলো লাগানো হয়েছে। যাতে এত ঢাক-ঢোল আর আলোর মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময়, ওদের এই বিষণ্ণ যুদ্ধক্ষেত্র মায়ের চোখে না পড়ে।”
দ্রোহের স্পটলাইটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ভিড় থেকে কয়েক জনকে আলাদা করে নিয়ে এই গল্প এগিয়েছে পরিণতির দিকে। এটা ছিল তাঁদের জীবনের প্রথম আন্দোলন। কীসের ডাকে পথে নেমেছিলেন তাঁরা? শুধুই কি একটা ধর্ষণ? নাকি সেদিন নিজেদের ঘরের আয়নাটাকেই আর তাঁরা সহ্য করতে পারেননি! তাই এই গল্পে, যে ডাক্তার অনশন মঞ্চে শুয়েও পাহাড়ি নদীর স্বপ্ন দেখে- তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে চা খায় পুলিশ কনস্টেবল অনসূয়া মিত্র। শুভ্র একবার মজা করেই অনুকে বলেছিল, “আমি চাই পুলিশ কোনোদিন লাঠি চালালে তোমার লাঠিটা যেন আমার পিঠেই ভাঙে।” তারপর থেকে রোজ রাতে কথাটা নিয়ে ভাবে অনু। এমন দিনও আসবে!
এ বই অভয়ার জন্য নয়। অভয়ার কষ্ট বুকে নিয়ে পথে নামা মানুষদের জন্য। মন পুড়ে ছারখার হয়ে গেলেও দেশের কোনো বার্ন ইউনিটে যাদের চিকিৎসা হয়নি। যাদের ধুকপুক বোঝার মতো স্টেথোস্কোপ এখন আর পাওয়া যায় না পৃথিবীতে। এই বই বিচার চাওয়া মানুষদের নিয়েলেখা একটি মানবিক রেকর্ড। বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক রূপকথার গল্প।