Description
জন্ম নিল এক হতভাগ্য পুত্রসন্তান ত্রিপর্ণার জঠর হতে। ত্রিপর্ণা তখন সম্পূর্ণ চেতনারহিত। প্রাণের স্পন্দনটুকু ছাড়া জীবনের কোনও প্রকাশ দেখা যাচ্ছে না। যেন কোনও মৃতদেহ প্রসব করেছে সন্তান। সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই অন্য কক্ষে স্থানান্তর করা হল। একবিন্দু মাতৃপীযূষও তার ওষ্ঠ স্পর্শ করতে পারল না। সুতনুকা তাকে ক্রোড়ে নিয়ে এক মুহূর্তের জন্য তাকিয়েছিল ত্রিপর্ণার মুখপানে। কী ভয়াবহ আকৃতি ধারণ করেছে ত্রিপর্ণার মুখাবয়ব! অচেতন সেই মুখ যেন সুতনুকার পানে কঠিন দৃষ্টি হেনে বলছে– পাপিষ্ঠা! ঈর্ষার অনলে তুই পুড়িয়ে দিলি দু’দুটো পরিবার! ধিক্ তোকে। যে জ্বালায় জ্বলে তুই আমাদের এত বড় সর্বনাশ করলি, তোর সেই যৌবনজ্বালা কোনোদিনও জুড়োবে না। সারাজীবন তুই পথে পথে ঘুরে মরবি। তবু শান্তি পাবি না। একদিন তোকে এই পাপের অনুশোচনায় পুড়তেই হবে। না হলে ভগবান মিথ্যা। জগৎ মিথ্যা।