×

11AM-5PM, Except Holiday

“গুপ্তকথা মন্দ নয়” পাঠ প্রতিক্রিয়া পাঠালেন- আলো ভট্টাচার্য

পাঠক আলো ভট্টাচার্য কলকাতা বই মেলায় এসেছিলেন ঝাড়খন্ডের জামসেদপুর থেকে। দ্য কাফে টেবল এর স্টল থেকে সংগ্রহ করেছিলেন তরুণ চট্টোপাধ্যায়ের ভিন্ন স্বাদের গ্রন্থ গুপ্তকথা মন্দ নয় বইটি।পাঠ প্রতিক্রিয়া পাঠালেন নিজের জবানীতে।
বঙ্গের গুপ্তকথা জুড়ে নানা রঙের ফুলঝুরি।ধনী-দরিদ্র,উকিল- মোক্তার,ডাক্তার-বৈদ্য,জজ – ম্যাজিস্ট্রেট,নট-নটী আরও কত পেশা।বাংলা ভাষায় গুপ্তকথা চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ এক সংযোজন।নরক গুলজার।আতস কাঁচের নীচে গুপ্তকথার নানা ময়না তদন্ত।

নিষিদ্ধ যৌবনের নিশি ডাক শুধুমাত্র হবে কেন।নিষিদ্ধতার গলি থেকে রাজপথ পরিভ্রমন।নানা গল্পের এক অদ্ভুত সমাবর্তন।কনফেশন সামাজিক অবদমনের বিরুদ্ধে।শরিরী বিদ্রোহ নয় মুক্ত কন্ঠস্বর।

বেথুন ইস্কুলের মানদা রমেশদার সঙ্গে ঘর ছেড়ে স্বেচ্ছায় হাড়কাটা ও রামবাগানের বেশ্যাপল্লীতে।যাচাই করে দেহ বিক্রি।

সমরেশ বসুর প্রজাপতি নিষিদ্ধতার জালে।আরও কত নিষিদ্ধ গল্পের জাহাজ ভেসেছে গ্রন্থ জুড়ে।নানা গুপ্ত নিয়ে বটতলার কথকথা।বটতলার বিস্তারিত সংবাদ।

জ্যোতিরিন্দ্র ঠাকুর ,নটী বিনোদিনী, কাদম্বরী সে সব ও এসেছে প্রসঙ্গের খাতিরে।হিরু ডাকাত বিশু ডাকাতের গুপ্ত কাজকর্মের বিস্তারিত খতিয়ান ও বাদ নেই।

গ্রন্থের মূল সুর সামাজিক অন্ধকারে আলোর দিশা।আলোর নীচে অন্ধকারের কাব্যময়তা। নানা বার্তা ভিন্ন ভিন্ন সুরে। গুপ্ত কথা মন্দ নয়।তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার নিরিখে জানালেন,

গুপ্তকথা মন্দ ই জানতাম।আজ বুঝলাম একেবারেই মন্দ নয়।গোপন ও কথাটি গোপন থাকেনি।ডানা মেলেছে গ্রন্থের পাতায় পাতায়
।গুপ্তকথা মন্দ নয়, সামাজিক অবদমনের এক জলছবি ,পাতায় পাতায় গুপ্ত কথার জাহাজ ।সে জাহাজ ডোবে নি একবার ও।বরং সিটি বাজিয়ে জানান দিয়ে গেছে ,গুপ্ত সে যতই গুপ্ত হোক,কাজল কালো চোখ থেকে বেরিয়ে এসেছে হিরে ,জহরত,মনি,মুক্তো।
তিনি আরও লিখলেন,গ্রন্থ টি হইয়াও হইলানো শেষ।
পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
জানি না পর্বে পর্বে লেখা হবে কি না গুপ্তকথা মন্দ নয়।
নানা গুপ্তকথার দলিল আসুক লেখকের কলম জুড়ে।
সাবলীল গদ্য ও ছন্দোময় লেখাটি বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল তারা হয়ে থাকুক।মিটমিটিয়ে নয় আলোকজ্জ্বল দীপ্তি বুকে ধরে।

গুপ্তকথা মন্দ নয়।অবশ্যই সুখপাঠ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More Blogs