লেখিকা সুনেত্রা সাধুর বই আভিচী পড়ে মতামত জানালেন সুজাতা রায়। পাঠিকাকে অজস্র ধন্যবাদ আমাদের বইকে এতোটা ভালোবাসা দেওয়ার জন্য।
সে বই ভুল পিনের চক্করে পড়ে অনেক ঘাটের জল খেয়ে অবশেষে যখন আমার হাতে এসে পৌঁছলো তখন আমি রোগ-রোগী-ডাক্তারের ঠোক্কর খেতে খেতে নাস্তানাবুদ।তারপর যখন পড়তে শুরু করলাম তখন যেন সাপের মতো পেঁচিয়ে ধরে সে বই আমায় গ্রাস করে নিল।সাহিত্যের ছাত্রী ছিলাম।গল্প উপন্যাসের নাম করণের সার্থকতা লিখতে লিখতে প্রাণ ওষ্ঠাগত হতো এক সময়।এই উপন্যাসের নামকরণ নিয়েই দশপাতা লিখে ফেলতে পারি সানন্দে।সর্বার্থে সার্থক ‘আভিচি’।
স্বচ্ছ সাবলীল তরতরে জলের মতো আদ্যন্ত নাগরিক ভাষাটি যেন আঠার মতো টেনে ধরে।একশো সাতষট্টি পাতার এই উপন্যাসে কোথাও রাশ এতটুকু আলগা হয় নি,একটি শব্দও অতিরিক্ত নয়।বেশ পরিশ্রমসাধ্য প্রস্তুতি নিয়েই লেখক এই রহস্য উপন্যাসে হাত দিয়েছেন তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।দুই প্রজন্মের দুটি নারীর জীবন চর্চা চর্যা অসহায়তা ন্যায় অন্যায়ের বোধ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাঁক নিয়েছে এবং তা কোথাও আরোপিত হয়ে ওঠেনি।তাদের বোধ বুদ্ধি শিক্ষা চেতনায় জারিত হয়ে সত্যি হয়ে উঠেছে,সমসাময়িক হয়ে উঠেছে।পড়তে পড়তে কখনও দম বন্ধ হয়ে আসে,অস্বস্তি হয়।নিত্য নরকবাস করেও সত্যি নরকের এমন নিখুঁত ছবি সহ্য হয় না যেন কিন্তু চোখ সরানো যায় না।টানটান রহস্যের এই উপন্যাসে খুনীর পরিচয় এর আভাস দিয়ে একটি মাত্র লাইন আছে। মনোযোগী এবং চতুর পাঠক হলে একটু আঁচ পেলেও পেতে পারেন নৈলে লেখকের হাত ধরেই শেষের স্বস্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।সুনেত্রা আমার কন্যাসমা।ওর বেশি প্রশংসা আমার আত্মপ্রশংসা র সমতুল।যারা পড়েন নি অবশ্যই পড়ুন।একজন আগামীর উজ্জ্বল লেখককে এই সময় না পড়লে পরে নিজেই নিজের পিঠ চাপড়ানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।