শ্রী অলোক বসু মহাশয়, জাপানি ভাষা নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের চর্চা এবং তার ফলস্বরূপ মূল জাপানি গ্রন্থ থেকে একাধিক অনুদিত গ্রন্থ, পাশাপাশি বাংলা ভাষায় তাঁর মৌলিক রচনা— উপন্যাস থেকে ছোটগল্প স্বকীয়তায় উজ্জ্বল। এমন একজন গুণী মানুষ সম্প্রতি দ্য কাফে টেবল প্রকাশনা থেকে এই বছরের ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত, লেখক ইমন অর্ণব-এর ‘অদ্ভুত বিষণ্ণ যখেরা’ পড়ে মতামত জানালেন ফেসবুকে তাঁর নিজস্ব টাইমলাইনে। প্রকাশনার তরফ থেকে অলোকবাবুকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা। তাঁর অনুমতিক্রমে মতামতটি নীচে দেওয়া হল। সঙ্গের ছবিটিও তাঁর টাইমলাইন থেকে সংগৃহীত।
“ইমন অর্ণবের গল্প এর আগে পড়ি নি। সম্প্রতি হাতে এসেছিল ” অদ্ভুত বিষণ্ণ যখেরা”! The Cafe Table থেকে প্রকাশিত এই গ্রন্থে ছ’ টা গল্প আর এই বইটার নামের একটা উপন্যাস আছে। অর্ণবের মুখবন্ধে দেখলাম যে ওর প্রথম গল্পগ্রন্থ ” রজনী -রহস্য ও অন্যান্য গল্প ‘ প্রকাশিত হয়েছিল 2023 সালে।অর্ণব তার এই গ্রন্থে তার নিজের কথায় গল্পগুলো-” মানুষের মনের অন্ধকার জগৎ – কাম -ক্রোধ, প্রতিহিংসা -প্রতিশোধ, লোভ -লালসা এবং উপন্যাসটি জাদু -বাস্তবতার পাশাপাশি নাছোড়বান্দা স্মৃতি এবং মানুষের মনের অবদমিত যৌনতার গাঢ় ধূসর রঙে আঁকা।”
অর্ণবের লেখার হাত খুব সুন্দর, কখনও কখনও খুব মোহময়! গল্পগুলো কম বেশি আমার বেশ লেগেছে। পাঠককে পড়তে পড়তে অন্যমনস্ক হতে দেয় না।
তার উপন্যাসটি এক রহস্যময় মনস্তাত্বিক বাতাবরণে এক মধ্যবিত্ত পরিবারের নানান চরিত্রের আলো আঁধারের বর্ণনায় এগিয়েছে। এই পরিবারের মেয়ে মান্ডবী মূল চরিত্র আর তার বিপর্যস্ত দিনযাপনকে ঘিরে এক জাদুবাস্তবতার যে পরিবেশ তার মধ্যে পাঠক কখনও কখনও একটু বিভ্রান্ত বোধ করলেও শেষ পর্যন্ত টেনে রাখে। এই আখ্যানে যে মান্ডবীর জীবনের প্রতিটি বিপর্যয়ের আগে বার বার হিংস্র দুই চোখ দিয়ে ধরা স্কারলেট আইবিস নামের লাল রঙের একটা পাখি ! তাদের বাড়ির মধ্যে গোপন সুড়ঙ্গ কিংবা পাতালকুঠুরি আগলে বসে থাকা যখেরা কি প্রতীক্ষায় থাকে এই বাড়ির মেয়েটির যে অনেক দূরে চলে গিয়েও একদা ফিরে আসে?
ইমন অর্ণব আরো লিখুক। তোমাকে অনেক শুভেচ্ছা অর্ণব!